ফকিরের আখড়া থেকে লালনের মাজারঃ বিবর্তন নাকি দখল ?

ফকির লালন সাঁইকে, তাঁর আঁখড়াবাড়ি নিষ্কর (কর মওকুফ) ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তৎকালীন শিলাইদহের কুঠিবাড়ির দায়িত্বে থাকা জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় যে ষোল বিঘা জমি সাঁইজির সাধনক্ষেত্র, তাহা স্থানীয় তাতিঁদের এবং মলম শাহের ‘হেবাকৃত’ ভূমিতে। রবি ঠাকুরের বড় ভাইয়ের এহেন প্রস্তাব পাইয়া, সাঁইজি বিগলিত হন নাই। তিঁনি জানতেন নিষ্কর জমিদারী ভূমিতে ফকিরের অন্ন হয়না। রাজ দরবারের অধিকৃত জমিতে সন্ন্যাসীর সাধনা অরক্ষিত। জমিদারের দয়ারূপী আগ্রাসনে সাঁইজি সায় না দিয়া, আনুমানিক ১৮৮৭/ ৮৮ সালে কুষ্টিয়া মহকুমা সাব-রেজিষ্টারের অফিসে তাঁহার শীষ্য শীতল ফকির, ভোলাই ফকির, মতিজান ফকিরানি ও প্যারিনেসা ফকিরানির নামে উইল/দলিল করেন।

লালন সাঁইজি দেহরক্ষার পনের দিন বাদে ৩১ অক্টোবর ১৮৯০ সালে, পাক্ষিক “হিতকরি” বলিতেছে,

❝লালন ফকির নাম শুনিয়াই হয়ত অনেকে মনে করিতে পারেন ইনি বিষয়হীন ফকির ছিলেন; বস্তুতঃ তাহা নহে….. সামান্য জাতজমা আছে; বাটীঘরও মন্দ নহে। জিনিষপত্রও মধ্যবর্ত্তী গৃহস্তের মত। নগদ টাকা ২ হাজার বলিয়া মারা যান। ইহার সম্পত্তির কতক তাঁহার স্ত্রী, কতক ধর্ম্মকন্যা, কতক শীতলকে ও কতক সৎকার্য্যে প্রয়োগের জন্য ইনি একখানি ফরমমাত্র করিয়া গিয়াছেন। ইনি নিজে শেষকালে কিছু উপায় করিতে পারিতেন না। শীষ্যেরাই ইহাকে যথেষ্ট সাহায্য করিত। বৎসর অন্তে শীতকালে একটি ভান্ডারা (মহোৎসব / দোল পূর্ণিমা) দিতেন। তাহাতে সহস্রাধীক শিষ্যগণ ও সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হইয়া সংগীত ও আলোচনা হইত। তাহাতে তাঁহার ৫/৬ শত টাকা ব্যয় হইত❞।

ফকির লালন সাঁইজি দেহরক্ষার কিছুকাল বাদে রবীন্দ্রনাথ আখঁড়াবাড়ি ভ্রমনে আসেন এবং এটাই রবীন্দ্রনাথের সর্বপ্রথম আগমন। অর্থাৎ আমাদের পন্ডিতদের একটা অংশ যে দাবী করেন সাঁইজির সাথে ঠাকুরের সাক্ষাত হইছিল, সেটা কল্পনা প্রসূত। সাঁইজি মানবলীলা সম্বরণ করিবার পরে, রবি ঠাকুর আখড়াবাড়িতে আসেন, এবং সাঁইজির ভক্তদের গানের খাতা নিজের সাথে করিয়া নিয়ে যান। কুষ্টিয়ার মুন্সেফ মতিলাল দাস “লালন স্মারকগ্রন্থ” তে ভোলাই শাহ ফকিরের জবানিতে লিখেছেন-

❝দেখুন রবিঠাকুর আমার গুরু (ফকির লালন সাঁইজির গান খুব ভালবাসিতেন, আমাদের খাতা (সাঁইজির গান সম্বলিত) তিনি লইয়া গিয়াছেন, সে খাতা আর পাই নাই, কলিকাতা ও বোলপুরে চিঠি দিয়া কোন উত্তর পাই নাই❞।

এই খাতা লুট/ চুরি/খোয়া যাওয়ার ব্যাপার কমবেশি অনেকেরই জানা। যেটা জানা নাই, সেটা জানিয়েছেন, পন্ডিত মনিরুদ্দিন ফকিরের চিঠি। যিনি সাঁইজির ভক্ত এবং শিলাইদহ কুঠিবাড়ির সেরেস্তাদার ছিলেন। গুরুভাইদের সাথে মনমালিন্য হেতু, নালিশ জানাইয়া পন্ডিত মনিরুদ্দিন ফকির, রবি ঠাকুরকে চিঠিতে লিখেছেন-

❝স্বর্গীয় মহারাজ জ্যোতিরীন্দ্রমোহন ঠাকুর মহোদয় লালন সাহা ছাহেবকে নিষ্কর দিতে প্রতিশ্রুত ছিলেন, কিন্তু সাহা ছাহেব লোকান্তর হওয়ায় তাঁহার সে আশা পূর্ণ হইয়াছিল না। তদপর হুজুরও নিষ্কর করিয়া দেওয়ার বাসনা করিয়াছিলেন। কিন্তু সাহা ছাহেবের অপর দুই শিষ্য শীতল সা ও ভোলাই সা মুখপাত্র হইয়া আরও কয়েকজন শিষ্যকে সমভিব্যাহারে সেই সময় হুজুরের জলজান বজরায় যাইয়া প্রতিবাদ করে যে, আমরা উক্ত আখড়ার জমি নিষ্কর লইতে ইচ্ছা করি না। কারণ নিষ্করভোগীদের অন্ন হয় না।

হুজুর বিলাত হইতে আসিয়া শ্রীযুক্ত মাননীয় নগেন্দ্রবাবু মহাশয়ের প্রতি ভার অর্পণ করিয়াছিলেন। তিনি স্বয়ং সমাধিস্থানে গমণপূর্বক দৈর্ঘ্য-প্রস্থের পরিমাপ করিয়া আসিয়াছিলেন এবং এষ্টিমেট প্রস্তুত করাইয়া লইয়াছিলেন। দুর্ব্বৎসর দেখিয়া শিলাইদহার কাছারির কর্ম্মচারি মহাশয়দিগেরা কয়েক মাসের জন্য সমাধি পাকা করান বিষয় স্থগিত রাখিয়াছিলেন। আমি সেই অবধি আশায় বুক বাঁধিয়া নিশ্চিন্ত আছি।

এক্ষণে বর্তমান বৈশাখ মাসের ৯/১০ই তারিখে উক্ত শীতল সাহা ও ভোলাই সাহা নিজ ব্যয়ে ঐ সমাধিস্থান ইষ্টক নির্মাণ করিতেছে এবং কার্য্য অর্ধেক পরিমাণ করিয়া তুলিয়াছে। এই কার্য্য উহারা সরকারের কোন অনুমতি না লইয়া কার্য্যারম্ভ করিয়া পরে হুজুরে দরখাস্ত দিয়া ঐ বিষয় গোচর করিয়াছে। ভোলাই সাহা ও শীতল সাহা পূর্ব হইতে আমার প্রতি ঈর্ষা করিয়া আসিতেছে এবং এক্ষণে আমার প্রার্থনা মতে হুজুরের সরকার হইতে সমাধি পাকা প্রস্তুত হইলে তাহাদের নিজের কোন আধিপত্য থাকিবে না ও মনিরদ্দীন সার যশ ও আধিপত্য কায়েম হইবে এই ঈর্ষার বশবর্তী হইয়া উহা যত সত্বর সমাধা হয় সে পক্ষে বিশেষ ভাবে যত্ন ও চেষ্টা করিতেছে। আমার বোধ হয় এ কয়েক দিনে উহার কড়িকাট তোলা হইয়া থাকিবে। আরও পরস্পর শ্রুত হইলাম যে জমিদার বাবুদের তরফ হইতে সমাধি মন্দির প্রস্তুত হইলে আমাদের যে প্রজাই সন্তু আখড়াতে আছে, তাহা লোপ হইয়া আখড়া জমিদারের খাস হইয়া যাইবে। এবং মনিরদ্দীন সাহার সুযশ ও আধিপত্য স্থাপিত হইবে। অতএব তাঁহার কার্য্য আরম্ভ করিবার পূর্বেই আমরা যেমন করিয়া পারি সমাধি-পাকা প্রস্তুত করাইয়া ফেলিব। উহারা তাড়াতাড়ী যে মাটির কাদা গাঁথনি করিতেছে তাহা অতি কদর্য্য ও অল্পকাল স্থায়ী হইবে তাহার কোন সন্দেহ নাই। ইহাতে আমার অন্তঃকরণে যৎপরনাস্থির দুঃখ উপস্থিত হইয়াছে এবং হুজুরের একটি মহৎকার্য্যের ব্যাঘাত করা হইয়াছে।❞

ভোলাই – শীতল ফকিররা বুক পেতে রক্ষা করেছেন আঁখড়া বাড়ি, সাঁইজির সাধনক্ষেত্র। দরবারী ক্ষমতার সুবিধা নেন নাই, মোড়ল প্রভুদের মনোরঞ্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন নাই। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এবং তদপরবর্তী হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বা ভারত ভাগের পূর্ববর্তী সময়ে, আখঁড়ার খাজনা বকেয়ায় নিলামে তোলা হয়। কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের কর্তাব্যক্তিরা সেই নিলাম ক্রয় করে পুনরায় আঁখড়া সাধু-ভক্তদের হাতে তুলে দেন। অর্থাৎ ফকিরির স্বতন্ত্র ভূমির অধিকার তখনো সাধু-সন্তদেরই ছিল। মোহিনী মিল পরিবার, সাঁইজির চির অনুরাগী।

৪৭ এ দেশভাগের পর, এদেশের শিল্প-দর্শন-কাব্যকে, পাকিস্তান মুসলমানি করণ প্রকল্প চালু করে। নজরুলের কবিতায়, শ্মশান কে গোরস্তান লেখাসহ আরো নানাবিধ উদাহরণ তো জানা আছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবে, গভর্নর মোনায়েম খান কর্তৃক ফকির লালন সাঁইজির “হকের ঘর” কে মাজারে রূপান্তর করা হয় ষাটের দশকে। আপনারা খেয়াল করবেন, দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারের হুবুহু আদলে, সাঁইজির সমাধিক্ষেত্র নির্মান করা হয়। আমাদের পূর্বজ সাধু-ফকিরগণ বিশেষত কোকিল ফকির, এই মুসলমানী করণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জারী রেখে লড়াই চালিয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দখলে নিজ ভূমে পরবাসী হলেন ফকির লালনের উত্তরসূরীরা।

স্বাধীন বাংলাদেশ, লালনের ফকিরি বুঝল না, তাঁকে দিয়ে ফিকিরি আদায় করা শুরু করলো। ফকিরের ভাষায়-

❝মন তুই ভেড়ায়া বাঙাল জ্ঞান ছাড়া
সদরের সাজ করছ সদাই পাছ বাড়িতে নাই বেড়া❞

বাঙালের বেড়াহীন পাছ বাড়ি ঢাকার দায়িত্বের জোয়াল তুলে দেয়া হল, ফকিরদের কাঁধে। জাতিবাদী সীমান্ত বেড়ার খেলায় সাংস্কৃতিক মহাজন বানানো হল, বাউল সম্রাট বানিয়ে।

❝আউল বাউল দরবেশ সাঁই,
সাঁইয়ের উপর আর নাই❞।

জ্ঞানহীন বাঙালের ঠাকুর-সম্রাট ছাড়া বুদ্ধির কুপিতে আগুন জ্বলে না। এইসব সম্রাট টম্রাট বানিয়ে, ভুলিয়ে দেয়া হইছে ফকিরের সাধনা তাঁর ভাব ভক্তির নিশানা। রাষ্ট্রীয় মদদে দখল করা হয়েছে ফকিরের ষোল বিঘা জমি, সাঁইজির সাধনক্ষেত্র, ভক্তজনের গুরুগৃহ। বানিজ্যের পসরা সাজিয়ে সাধুসঙ্গকে বানিয়েছে মেলা।

১৯৮৪ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের এক জেলা প্রসাশক, চেয়ার বলে ‘লালন একাডেমীর’ সভাপতি হিসেবে, গেট আটকিয়ে সাধু-ফকিরদের তওবা পড়াতে সচেষ্ট হন। এই ঘটনায়, তৎকালীন ‘লালন মাজার রক্ষা কমিটি’, ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে, লালন একাডেমির বিরুদ্ধে। সেই মামলার ফলশ্রুতিতে, সাধু-ফকিরদের উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন ও মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয় সাধু-সন্তদের নামে। লালন একাডেমির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা শেষ পর্যন্ত মাহামান্য আপীল বিভাগ অবধি গড়ায়, এবং সেখানেও ফকিরদের জয় হয়। আপীল বিভাগ রায়ে, লালন একাডেমিকে অবৈধ ঘোষনা করে, আখড়ার ভূমিতে ফকিরদের স্বতন্ত্র অধিকার ঘোষণা করে এবং ফকিরির রীতিনীতি মোতাবেক আখড়ার পরিচালনার সম্পূর্ণ অধিকার কেবল সাধুগুরুদের মর্মে ঘোষিত হয়। সাধু-ফকিরদের হাতে আখড়ার দায়িত্ব তুলে দেবার জন্য রাষ্ট্রকে আদেশ দেয়া হয়। অদ্যবদি সেই আদেশ কার্যকর হয়নি, এই রাষ্ট্র সেই আদেশ পালনে ব্যর্থ নাকি অবহেলা? কিন্ত কেন? তাইলে যে রাষ্ট্রের বুজরুগি তাবেদারি বন্ধ হয়ে যাবে। মেলা বন্ধ হয়ে সাধুসঙ্গ হবে। মাজার বিলুপ্ত হয়ে আখড়া ফিরবে, একাডেমীর বিনাশ হয়ে ফকিরের সাধনক্ষেত্রের উদয় হবে, সেসব কি আর করতে দেয়া যায়?

যে ফকির ও তাঁর পরম্পরা গোটা জীবন লড়াই করেছে ক্ষমতা ও দরবারের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য অসাধারণত্ব বজায় রাখতে, সেই পরম্পরাকে আজ কথিত ‘জাতীয় দিবস’ বানিয়ে ক্ষমতার পাপেটে পরিণত করার চক্রান্ত হচ্ছে। আমাকে বলেন এই জাতীয় দিবস বানাইয়া বা রাষ্ট্রের এমপি মন্ত্রী বা বিদেশী এনজিও দিয়া লালন ফকিরের বা বর্তমান সাধু ফকিরের কাজ কি? যে সন্ন্যাস নিছে তাঁরে আপনি রাজদরবারের পাপস দিচ্ছেন কেন? এর ফায়দা কি? নাকি ফাঁদ? ফকিরের জমি দখল কইরা, তাঁর নিজভূমের স্বাধীকার হরণ কইরা, তাঁর আচার বিচার নাই কইরা ‘জাতীয় দিবসের পালক লাগাইয়া তাঁর সাধক সত্তারে, তাঁর সন্ন্যাসীর আচরণকে, তাঁর অটল অখন্ড ধ্যানকে বিনাশ করার চুড়ান্ত পদক্ষেপ বৈ অন্য কিছু নহে। দু:খের বিষয়, এখন এই কাজ করছে ঘরানার বেশ-ভূষা ধরা বুদ্ধিজীবীরা। বুদ্ধিজীবীদের কাজ ফকিরি না। ফকিরি শব্দের কচকচানি না, ফকিরির ভাবকে ভাষা দিয়ে নয় গতর দিয়া বোঝন লাগে।

❝না বুঝে মজনা পিরিতে
জেনে বুঝে কর পিরিত
শেষ ভালো দাঁড়ায় যাতে❞

এইসব জাতীয় দিবস বানাইয়া, মেলার টেন্ডারবাজি না কইরা যদি তেনারা আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করতেন, তাতে তাদের পকেটের কিছু না হলেও, ফকিররা ফিরে পেত তাদের আদি আখড়া। জমির বৈধ দলিল থাকা স্বত্ত্বেও, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিচারালয় আপীল বিভাগের রায় ফকিরদের পক্ষে থাকা স্বত্ত্বেও, বাস্তুহারা আখড়াচ্যুত নিপিড়ীত লালন ফকিরের উত্তরসাধকরা। এর থেকে জাতি হিসেবে লজ্জার আর কি আছে!? এই লজ্জামুক্ত হওয়া আদতে আইনের শাষণ ও ন্যায়-নীতির প্রতিষ্ঠা।

গুরু সেই শক্তি দিন।
সাঁইজি সেই ভক্তি দিন।
জয় জয় সাধুগুরুর জয়।

 

বিনয়াবনত

বিধুনন জাঁ সিপাই

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ

শেয়ার করুন:

অন্যান্য পোস্ট

কাঙাল হরিনাথের লালন সাঁই ফকির

ম. মনিরুজ্জামান   অখণ্ড বাংলাদেশে উনিশ শতকে সংবাদ-সাময়িকীপত্র পরিচালনা করে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার (১৮৩৩-৯৬)। তিনি থাকতেন কুমারখালীতে।

বিস্তারিত

You cannot copy content of this page

ভিক্ষার ঝুলি

ওয়েবসাইটের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে অনুদান পাঠাতে পারেন।

 +৮৮০১৮৪৯৬১৫০৩৫

 +৮৮০১৮৪৯৬১৫০৩৫-৫