লালন সাঁই-এর গানের জীবনীঃ প্রথমা পর্ব
রাগ ও তাল সংগীতের অবয়ব। চর্যাপদের মতো; লালনের গানে পদের সূচনায় রাগের উল্লেখ নেই। কিন্তু তালবিভাগের পরিচয় পাই পর্বান্তিক অন্তমিলে, এক দাঁড়ির অর্ধচ্ছেদে, এবং দু- দাঁড়ির পূর্ণচ্ছেদে। কবিতা হিসাবে বিচার করলে পর্ব, এক দাঁড়ির অর্ধ্বচ্ছেদ এবং দু-দাঁড়ির পূর্ণচ্ছেদকে এখানে চিহ্নিত করা যায়। লালনপন্থী সাধক-গায়ক এবং পদকর্তাদের মতে, লালনের গানের ত্রিখণ্ড। তাঁর গানের সূচনা বা ভূমিকাকে বলা হয় মুখপাত। উদ্ভব। ধরণ। একাধিক পর্বে বা কলিতে গঠিত চরণটি একদাড়ি বা বিসর্গচিহ্ন দিয়ে
কাঙাল হরিনাথের লালন সাঁই ফকির
ম. মনিরুজ্জামান অখণ্ড বাংলাদেশে উনিশ শতকে সংবাদ-সাময়িকীপত্র পরিচালনা করে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার (১৮৩৩-৯৬)। তিনি থাকতেন কুমারখালীতে। লালনের ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি থেকে কুমারখালীর ‘কাঙাল কুঠির’-এর দূরত্ব ৮/৯ মাইল । লালন ও কাঙাল উভয়ে বাস করতেন কলকাতা-জোড়াসাঁকো ঠাকুর জমিদারদের বিরাহিমপুর (শিলাইদহ) পরগনায় । হরিনাথ মজুমদার পরিচালিত পূর্ববঙ্গের প্রাচীন সাময়িকী গ্রামবার্তা প্রকাশিকা (১৮৬৩-৮৫) আলোড়ন তুলেছিল ব্রিটিশ শাসকগোষ্টির আশির্বাদপুষ্ট জমিদার, নীলকরদের কীর্তিকাহিনী প্রকাশ করে। সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা স্মরণযোগ্য। পাঁচালি, নাটক,
লা ল ন গী তি র অ নু বা দ – প্র স ঙ্গ: এ ক টি ভূ মি কা
— ডক্টর ক্যারল সলোমন আমি যখন বাউল সম্প্রদায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি লালন ফকিরের গান ইংরেজিতে অনুবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি তখন দেখেছি যে প্রকৃত অনুবাদের কাজ শুরু করার পূর্বে অনুবাদককে অন্তত তিনটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়: ১. গানের প্রামাণিকতা বিচার ২. গানের পাঠোদ্ধার ৩.গানের অর্থবিশ্লেষণ ১. গানের প্রামাণিকতা বিচার লালনের ভণিতাসহ অনেক গান আছে যেগুলো লালনের নয় । এক্ষেত্রে গানটির মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যেই লালনের নাম আরোপিত হয়েছে। এই কারণে আমি সে সমস্ত গান
সাধক লালন শাহঃ ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেন
সঙ্গীতপ্রিয় বাংলা-দেশীয় সমাজে লোকগীতির ক্ষেত্রে সাধক লালন শাহ এত অজস্র ও অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন যে, এইসব পরমার্থ-সূচক মরমী গানের সহজ প্রকাশমাধুর্য ও লালিত্যের গুণেই তিনি বেশ কয়েক শতাব্দী যাবত বাঙালীর হৃদয়ে ভাব- লহরীর উদ্রেক করতে পারবেন। মরমী গানের প্রকৃতিই হচ্ছে, নানা রূপক দিয়ে অতীন্দ্রিয় ভাবকে প্রকাশ করতে হয় । অনেক সময় সেগুলো বুদ্ধি দিয়ে বেড় পাওয়া যায় না, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেই লোকে তৃপ্তি পায় । হৃদয়ের অলক্ষ্য ভাবগুলো
ফকিরের আখড়া থেকে লালনের মাজারঃ বিবর্তন নাকি দখল ?
ফকির লালন সাঁইকে, তাঁর আঁখড়াবাড়ি নিষ্কর (কর মওকুফ) ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তৎকালীন শিলাইদহের কুঠিবাড়ির দায়িত্বে থাকা জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় যে ষোল বিঘা জমি সাঁইজির সাধনক্ষেত্র, তাহা স্থানীয় তাতিঁদের এবং মলম শাহের ‘হেবাকৃত’ ভূমিতে। রবি ঠাকুরের বড় ভাইয়ের এহেন প্রস্তাব পাইয়া, সাঁইজি বিগলিত হন নাই। তিঁনি জানতেন নিষ্কর জমিদারী ভূমিতে ফকিরের অন্ন হয়না। রাজ দরবারের অধিকৃত জমিতে সন্ন্যাসীর সাধনা অরক্ষিত। জমিদারের দয়ারূপী আগ্রাসনে সাঁইজি সায় না দিয়া, আনুমানিক ১৮৮৭/
লালনের সাঁইজি পর্ব ০১ | অনুদাস
বল বল বল সখী গুরু কেমন বস্তু ধন, মন্ত্র দাতা দীনে ধন্য করিলে দাসের জীবন, জানী না গুরু তত্ত্ব, গুরু কেমন বস্তু অর্থ, আমার নাই জ্ঞান পদার্থ নয়নহীন নয়ন, জিজ্ঞাসিলাম এসব তত্ত্ব বলো এ সব কারণ। কিবা আচার কিবা বিচার কি প্রকার করব যাজন, কি ভাব ভাবিব মনে কি সম্বন্ধ গুরুর সনে ভাবি সদা মনে মনে চিন্তা অনুক্ষণ ৷৷ হঠাৎ কারে আসি কৃপা করিলেন যেজন, একান্ত ঘুচাও ভ্রান্ত ব্যাকুল মোর
আরশি নগর কেমন শহর ? বিষয় ফ্রয়েডের আবিষ্কার ও মহাত্মা লালন ফকির | সলিমুল্লাহ খান
এই লেখার বিষয় মহাত্মা লালন ফকির। তবে মালিকের অনুমতি পাই তো প্রথমে বন্দনা করি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । প্রখ্যাত রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সন্জীদা খাতুন একদিন মনের দুঃখে লিখেছিলেন: উনিশ শ একষট্টিতে রবীন্দ্র শতবার্ষিকীর বিশ্বব্যাপী আয়োজন এদেশে রবীন্দ্রসঙ্গীতপ্রীতি পুনরুজ্জীবিত করল । এ সময়ে বাধা অগ্রাহ্য করেও ঐতিহ্য রক্ষা করার অকৃত্রিম (sic) আগ্রহ লক্ষিত হয়েছে। কিন্তু রবীন্দ্রশতবার্ষিকীর যে শ্রোতৃসমাবেশ তাও সর্বসাধারণের সমাবেশ নয় – 1 —শিক্ষিতজনেরই সমাবেশ। কাজেই এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে
দ র বে শ লা ল ন সাঁ ই | অন্নদাশঙ্কর রায়
চার বছর আগে একদিন বাংলাদেশ থেকে একখানি বই আসে। নাম ‘লালন স্মারকগ্রন্থ‘। সম্পাদক আবুল আহসান চৌধুরী। প্রকাশক কায়সুল হক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা । দু‘জনেই আমার প্রীতির পাত্র । কবি কায়সুল হকের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় শান্তিনিকেতনের সাহিত্যমেলা উপলক্ষে ১৯৫৩ সালে । আর আবুল আহসানের পিতা ফজলুল বারি চৌধুরীর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ১৯৩৫-৩৬ সালে যখন আমি কুষ্টিয়ার মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট। আর আবুল আহসানের মাতুল কাজী মোতাহার হোসেনের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৩৩
ফ কি র লা ল ন শা হ | ডক্টর উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
রবীন্দ্রনাথ-সংগৃহীত লালন শাহ ফকিরের কুড়িটি গান সর্বপ্রথম ‘প্রবাসী’র ‘হারামণি’ শীর্ষক বিভাগে প্রকাশিত হয় (প্রবাসী, ১৩২২, আশ্বিন-মাঘ সংখ্যা)। ইহার পূর্বে লালনের দুই-চারিটি গান কোনো কোনো সংগীত-সংগ্রহে স্থান লাভ করিতে পারে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম অতগুলি গান প্রকাশ করিয়া লালনের প্রতি সকলের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেন। এই গানগুলি খুব সম্ভব লালনের আখড়ায় রক্ষিত একটি খাতা হইতে নকল করিয়া লওয়া হয়, পরে রবীন্দ্রনাথ শুদ্ধ আকারে সেগুলি প্রকাশ করেন। ছেলেবেলা হইতে দেশের নানা মুসলমান ফকিরের
ফকির লালন শাহের ভাবচর্চাঃ শ্রুতি ও স্মৃতির সংস্কৃতি এবং ছাপাখানা । ফরহাদ মজহার
শ্রুতি ও স্মৃতির সংস্কৃতি কিম্বা কান ও কণ্ঠের জগতের সঙ্গে লিপি ও ছাপাখানার সংস্কৃতি বা জগতের পার্থক্য নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা আছে। এখানে আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু টুকরা মন্তব্য করবো। তবে সংস্কৃতি কথাটাকে বুঝতে হবে নিছকই নান্দনিক ব্যাপার হিশাবে নয়। কিভাবে কৃৎকৌশল আমাদের ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার, ভাবনার জগত, চিন্তা ও উপলব্ধির শর্তগুলো বদলে দেয় সেই সামগ্রিক বিবেচনা মনে রেখে। এই অর্থে সংস্কৃতি রীতিমতো দৈহিক ব্যাপারও বটে, কারণ দেহের বাইরে ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার নাই
লা ল ন ফ কি রে র গান | ডক্টর মতিলাল দাশ
গত শতকে য়ুরোপীয় সভ্যতা ও সাহিত্যের সংস্পর্শে বাঙ্গালা-সহিত্যের অভূতপূর্ব উন্নতি হইয়াছে, কথা ও আখ্যায়িকার বন্যায় বাঙ্গালাদেশ ছাইয়া গিয়াছে। কিন্তু তথাপি এই ঋদ্ধির গতির সহিত দেশের নাড়ীর যোগ নাই। বৈষ্ণব কবিদের কবিতা কিংবা ধৰ্ম্ম- মঙ্গলের কবিতা, পাঁচালী এবং ছড়া দেশের মর্ম্মকোষে পদ্মের মত বিকশিত হইয়া আপন সৌরভে দিগন্ত সৌরভান্বিত করিয়াছিল। বর্তমানের যুগ-সাহিত্য তথাকথিত শিক্ষিত বাঙ্গালীর মনের ব্যথা-বেদনাকে প্রকাশ করিয়াছে, কিন্তু মৌন-মুক আপামর জনসাধারণের চিত্তের দ্বারে তাহার অধিকার নাই । অজ্ঞাত লোক-সাহিত্যের
আমি তুমি সে সাঁইজির ‘অপর’ আর ‘পর’ কে কে? | সলিমুল্লাহ খান
আমার প্রাণের চোখ খুলল প্রিয়ের সঙ্গে দেখা হল ‘কে তুমি?‘ পুছ করল সে ‘কেন, তুমি’– জবাব দিলাম আমি – মনসুর আল হাল্লাজ (বলদিক ১৯৮৯: ৪৭) মহাত্মা লালন ফকির নদীয়া কুষ্টিয়ার আপন সমাজে ‘সাঁইজি‘ নামে জারি আছেন। আমরাও এই নাম গ্রহণ করা উচিত জ্ঞান করি। সম্প্রতি মহাত্মা ফরহাদ মজহারও তাই করেছেন । (মজহার ২০০০) শ্রী বসন্ত কুমার পাল বাংলা ১৩৩২ সালের শ্রাবণ সংখ্যা প্রবাসী পত্রিকায় ‘ফকির লালন শাহ‘ নামা প্রবন্ধ এবং
ফকির লালন শাহের ভাবচর্চাঃ লালনের গান সংগ্রহ ও সম্পাদনার সমস্যা | ফরহাদ মজহার
“আধুনিক বাংলার আদর্শে যাঁহারা প্রাচীন পুঁথি সংশোধন করেন তাহারা পরম অনিষ্ট করেন” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওপরের কথাগুলো বলেছি তা মনে রেখে ফকির লালন শাহের সংগৃহীত গান, সম্পাদনা ও প্রকাশ সংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কলিকাতা বিশ্বদ্যিালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে লালন শাহ্ ফকিরের গান, ‘লালন-গীতিকা’। ‘লালন-গীতিকা’—য় প্রধানত মতিলাল দাশের সংগৃহীত গানই ছাপা হয়েছে। তাঁর গানই বইয়ের আগে দেওয়া হয়েছে। তারপর রবীন্দ্রনাথের সংগৃহীত পাঠের সঙ্গে পাঠ
ফকির খোন্দকার পাঞ্জু শাহ
বাংলার সুফি ফকিরদের মধ্যে লালনের স্থান সর্বোচ্চ, কিন্তু লালনের মৃত্যুর পরে যিনি সারা বাংলার ফকির মহলে লালনেরই মত উচ্চ স্থান লাভ করিয়াছিলেন, তিনি ফকির পাঞ্জু শাহ। লালনের মৃত্যুর অব্যবহিত পত হইতেই প্রায় পঁচিশ বৎসর যাবৎ পাঞ্জু শাহ অনেকটা লালনের শূন্যস্থান পূরণ করিয়া রাখিয়াছিলেন। লালনের মত তাঁহার রচিত গান বাংলার সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং ফকির মহলে বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে গীত হয়। ১২৫৮ সালের শ্রাবণ মাসে ফকির পাঞ্জু শাহ যশোহর জেলার শৈলকূপা
সাধক কবি ফকির শীতলং শাহ
লেখক : মতিন উদ্দীন আহমদ সাধক কবি ফকির শিতালং শাহ মতিন উদ্দীন আহমদ তাঁহার আসল নাম ছিল মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ্। তিনি ফকিরি নাম গ্রহণ করেন শিতালং। ইহা একটি ফারসি শব্দ। ইহার অর্থ পায়ের গোড়ালির গোল হাড়। নিজকে পায়ের গোড়ালির হাড়ের মত প্রকাশ করিয়া বিনয়ের পরাকাষ্ঠা দেখাইয়াছেন আল্লাহ-রসুলের প্রেমে মাতোয়ারা সাধক ফকির কবি সলিম উল্লাহ্। নিজের জন্ম সম্বন্ধে কবি তাঁহার ‘ছিফত পীর মুরশিদান’ পয়ারে বলিয়াছেন— “শিতালং নাম মোর গুনাহ্ বেশুমার কৃপা
ফ কি র লা ল ন শা হ – বসন্তকুমার পাল
শৈশব হইতেই দেখিতে পাই, এক সম্প্রদায়ের ফকিরগণ সারঙ্গ কিম্বা গোপীযন্ত্র বাজাইয়া হিন্দু বৈরাগীদের ন্যায় গান গাহিয়া ভিক্ষা করিতে আসে । কৌতূহলবশে আমার পিতামহের নিকট একদিন ইঁহাদের বিষয় জিজ্ঞাসা করায় জানিতে পারিলাম, ইঁহারা সাঁইজীর শিষ্য বা বালক এবং তিনি সাঁইজীর জীবনকথাও সংক্ষেপে বলিলেন। তখন আমি শিশু, সাঁইজীর জীবনের করুণ কাহিনী যাহা শুনিলাম উহা বিশদরূপে জানিবার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার অন্তঃকরণে জাগরুক হইয়া রহিল। সাঁইজী যে কে, বৰ্ত্তমান প্রবন্ধ পাঠককে তাহারই কিঞ্চিৎ
ম হা ত্মা লা ল ন ফ কী র
‘হিতকরী’ [পাক্ষিক, কুষ্টিয়া] ১৫ কার্তিক ১২৯৭/ ৩১ অক্টোবর ১৮৯০ (শ্রী হরিনাথ মজুমদার বা কাঙ্গাল হরিনাথ কর্তৃক সম্পাদিত) লালন ফকীরের নাম এ অঞ্চলে কাহারও শুনিতে বাকী নাই । শুধু এ অঞ্চলে কেন, পূর্ব্বে চট্টগ্রাম, উত্তরে রঙ্গপুর, দক্ষিণে যশোহর এবং পশ্চিমে অনেকদূর পর্য্যন্ত বঙ্গদেশের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক এই লালন ফকীরের শিষ্য; শুনিতে পাই ইঁহার শিষ্য দশ হাজারের উপর। ইঁহাকে আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি; আলাপ করিয়া বড়ই প্রীত হইয়াছি । কুষ্টিয়ার অনতিদূরে
চাঁদ আছে চাঁদে ঘেরা
চাঁদ আছে চাঁদে ঘেরা কেমন করে সে চাঁদ ধরবি গো তোরা ।। রূপের গাছে চাঁদফল ধরে তায় থেকে থেকে চাঁদের ঝলক দেখা যায় একবার দৃষ্টি করে দেখি ঠিক থাকে না আঁখি রূপের কিরণে চমক পারা ।। লক্ষ লক্ষ চাঁদ করেছে শোভা তাঁর মাঝে অধর চাঁদের আভা চাঁদের বাজার দেখে চাঁদ ঘুরানি লেগে দেখিস যেন পাছে হোস নে জ্ঞানহারা ।। আলেক নামের ষর আজব কুদরতি রাতে উদয় ভানু
চল যাই আনন্দের বাজারে
চল যাই আনন্দের বাজারে চিত্ত মন্দতম অন্ধ নিরানন্দ রবে নারে ।। সুজনায় সুজনাতে সহজ প্রেম হয় সাধিতে যাবি নিত্য ধামেতে প্রেমপদের বাসনা প্রেমের গতি বিপরীতে সকলে জানে না কৃষ্ণপ্রেমের বেচাকেনা অন্য বেচাকেনা নাইরে ।। সহস্রারের বাঁকা কারণ শ্যামরায় করলে ধারণ হইলেন গৌর বরণ রাধার প্রেম সাধনা আনন্দে সানন্দে মিশে যোগ করে যেজনা সে নিহেতু প্রেম অধর ধরা লালন বলে যেতে পারে ।।
ঘরের চাবি পরের হাতে
ঘরের চাবি পরের হাতে কেওনে খুলিয়া সে ধন দেখব চক্ষেতে ।। আপন ঘরে বোঝাই সোনা পরে করে লেনাদেনা আমি হলাম জন্মকানা না পাই দেখিতে ।। রাজি হলে দারোয়ানী দ্বার ছাড়িয়ে দেবেন তিনি তারে বা কই চিনি জানি বড়াই কুপথে ।। এই মানুষে আছে রে মন যারে বলে মানুষ রতন ফকির লালন বলে পেয়ে সে ধন না পাই চিনিতে ।।